আত্মবিশ্বাসী মানুষের গল্প জেনে এসো আত্মবিশ্বাসী হই (পাঠ ৬ - ৮)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - কর্মেই আনন্দ | NCTB BOOK
600

অনেকেই মনে করেন, আত্মবিশ্বাস হলো জীবনে সফল হওয়ার মূলমন্ত্র। আত্মবিশ্বাসী না হলে জীবনে সফল হওয়া যায় না। জীবনে চলার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা আসে। কিন্তু যারা আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান, তারা সহজে হাল ছাড়ে না। লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত চলতেই থাকে তাদের প্রচেষ্টা। যত বাধাই আসুক কিছুই তাদের থামিয়ে রাখতে পারে না। যাদের আত্মবিশ্বাস নেই তারা অল্পতেই হাল ছেড়ে দেয়, মেনে নেয় পরাজয়।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা ভাবো। বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানিরা আমাদের বঞ্চিত করেছে। আমাদের টাকায়, আমাদের সম্পদে ওরা সম্পদ গড়েছে। তারপর আমরা যখন আমাদের ন্যায্য অধিকার চাইলাম, তখন ওরা আমাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাতে লাগল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে অতর্কিতে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। নির্বিচারে হাজার হাজার নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষ হত্যা করল। সেই জুলুম আমরা মেনে নিইনি। আমরা তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি। আমাদের না ছিল অস্ত্রশস্ত্র, না ছিল সামরিক প্রশিক্ষণ। কিন্তু আমরা বাংলা মায়ের দামাল ছেলে-মেয়েরা দেশপ্রেম ও আত্মত্মবিশ্বাসে বলীয়ান ছিলাম। তাই আমরা শত বাধা অতিক্রম করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছি।

তোমরা কি মুসা ইব্রাহিমের নাম শুনেছ? তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়ার সময় থেকেই তিনি পর্বতারোহণের কঠোর অনুশীলনে মগ্ন থাকতেন। এভারেস্টে আরোহণকালেও অক্সিজেন স্বল্পতা ও শারীরিক নানা বাধার মুখে পড়েন তিনি। বেশ কয়েকবার মৃত্যুমুখে পড়তে পড়তে বেঁচে ফেরেন। তবুও তিনি হার মানেননি, দমে যাননি, থেমে যাননি। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে তিনি ঠিকই এভারেস্ট জয় করেছেন।

চিত্র: এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহিম

বাংলাদেশের এক ছোট্ট শহরে ফেরদৌসির জন্ম। ছোটোবেলা থেকেই তার ইচ্ছা সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। তাই সে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করত। সে যখন স্কুলে পড়ত, তখন স্কুলে যাবার পথে কয়েকজন বখাটে ছেলে তাকে বিরক্ত করত। ফেরদৌসি ছিল সাহসী ও আত্মমর্যাদাবান মেয়ে।

বাংলাদেশের এক ছোট্ট শহরে ফেরদৌসির জন্ম। ছোটোবেলা থেকেই তার ইচ্ছা সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। তাই সে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করত। সে যখন স্কুলে পড়ত, তখন স্কুলে যাবার পথে কয়েকজন বখাটে ছেলে তাকে বিরক্ত করত। ফেরদৌসি ছিল সাহসী ও আত্মমর্যাদাবান মেয়ে।

এসো আত্মবিশ্বাসী হই
নিচের ছবিগুলো দেখে বলো তুমি কোথায় কোথায় আত্মবিশ্বাসী হতে পারো?

কাজ

শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রথমে দুই ভাগ হয়ে যাবে। প্রতি ভাগে ছেলে-মেয়ের অনুপাত সমান থাকবে। দুই ভাগের প্রথম ভাগ হবে সরকার পক্ষ ও দ্বিতীয় ভাগ হবে বিরোধীপক্ষ। উভয়পক্ষই শিক্ষকের সহায়তায় তাদের ২-৩ জনের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। এই প্রতিনিধি নিচের ইস্যুতে তার দলের ভূমিকা বা অবস্থান ব্যাখ্যা করবে। শিক্ষক এ ক্ষেত্রে মাননীয় স্পিকারের ভূমিকা নিতে পারেন।
'বাল্যবিবাহ/যৌতুক প্রথা রুখতে আমি কী কী করতে পারি এবং কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারি' শিক্ষক তাদের ভাবনা, চিন্তা ও বক্তব্যসমূহের সামগ্রিক মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করবেন।
*এ কাজের জন্য দুটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...